ব্রেকিংঃ
Home / সকল খবর / হাসিনার নির্দেশে গেণ্ডারিয়ায় মসজিদ নির্মাণ বন্ধ

হাসিনার নির্দেশে গেণ্ডারিয়ায় মসজিদ নির্মাণ বন্ধ

তাজউদ্দীন:

পবিত্র মাহে রমজানের মাসে যেখানে কতিপয় মুসলমানদের বাস সেসব দেশের অমুসলিম শাসকরা রোযাদারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ও ইফতারির আয়োজন করেছেন। জার্মানীর প্রেসিডেন্ট রোযাদারদের সাথে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন, ব্রিটেন বিবৃতি দিয়ে মাহে রমজানকে স্বাগত জানিয়েছেন। একইভাবে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতো রাস্তায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে পথচারী রোযাদারদের ইফতারির ব্যবস্থা পর্যন্ত করেছে। আর বাংলাদেশের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই পবিত্র মাসটিতে কী করছেন? তিনি রমজান মাসে নামায পড়তে যাওয়া মুসুল্লিদের উপর হামলা চালিয়েছেন বর্বর পুলিশ বাহিনীকে দিয়ে। মসজিদে ভাঙ্চুর করিয়েছেন। পবিত্র কোরআন শরিফ আঁচড়ে মেঝেতে ফেলে দিয়েছেন। ওনার গেণ্ডারিয়া থানার ওসিকে দিয়ে পিস্তল উঁচিয়ে হুমকি দিয়ে মুসুল্লিদের মসজিদে নামায পড়তে আসতে নিষেধ করিয়েছেন। মুসুল্লিদের মসজিদ থেকে বের করে দিয়েছেন। হাসিনার আস্কারা পেয়ে সংখ্যালঘু হিন্দুরা মসজিদ নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।

পাঠক, এবার ভেবে দেখুন ধর্ম ব্যবসা মূলত কে করেন? আর কে মুনাফিক?

যিনি নির্বাচনের আগে মাথায় পট্টি বেঁধে হজ্জ্ব বা ওমরাহ করতে যান, যিনি আল্লাহর ঘরের নিরাপত্তা দেয়ার ঘোষণা দেন, যিনি নাকি রাত জেগে তাহাজ্জুত পড়েন এবং মদিনা সনদ অনুযায়ি রাষ্ট্রপরিচালনার ঘোষণাও দেন; আবার তিনিই রাসূল (সাঃ) এর অবমাননার প্রতিবাদ জানাতে আসা হাজার হাজার হেফাজত কর্মীদের হত্যা করেন, মসজিদের মোয়াজ্জিনকে হত্যা করেন, জুমার খুতবার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেন, পাঠ্যপুস্তক থেকে ইসলামি শিক্ষা তুলে দেন, সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের ধারা তুলে ধর্মনিরপেক্ষতা বা নাস্তিক্যবাদ চালু করেন- আর এবার তিনি মসজিদ নির্মাণে বাঁধা দিয়েছেন এবং মুসুল্লিদের নামাযে এলে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। তাহলে শেখ হাসিনা কী ধার্মিক নাকি ধর্মব্যবসায়ী? মূলত তিনি মুনাফিক ও মুশরিক।

হাসিনা ধর্মের কথা বলে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চায়। মুনাফিকের যে তিনটি চরিত্র হাসিনারও সে তিনটি চরিত্র বিদ্যমান। যেমন মুনাফিকদের মতো হাসিনা মিথ্যা কথা বলেন। মদিনা সনদে রাষ্ট্রপরিচালনার কথা বলে মসজিদ নির্মাণে বাঁধা দেন। রোযাদারদের সাঁড়াশি অভিযানের নামে গ্রেফতার করেন। আবার মক্কার নিরাপত্তার দেয়ার অঙ্গীকার করে বাংলাদেশের মুসলমানদের নিরাপত্তা দেয়ার অঙ্গীকারের খেয়ানত করেন। বাংলাদেশের মুসলমানদের ধর্মপালনের আমানত তিনি খেয়ানত করেছেন। হেফাজতে ইসলামের কাছে যে ওয়াদাগুলো করেছেন তার সম্পূর্ণ তিনি খেয়ানত করছেন।

৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে হিন্দুরা এতোটাই প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে যে তারা মুসলমানদের মসজিদ নির্মাণে পর্যন্ত বাঁধা দেয়ার দুঃসাহস করছে। করবে না কেন? হাসিনা ক্ষমতায় থাকা আর মোদি থাকাতো একই কথা। ৯২ ভাগ মুসলমানের জন্য এবারের বাজেটে বরাদ্দ রয়েছে ৫ পার্সেন্ট আর ৫ পার্সেন্ট হিন্দুদের জন্য বরাদ্দ ৯০ পার্সেন্ট। মন্ত্রণালয়, প্রশাসন, বিচারবিভাগ থেকেশুরু করে স্কুল, কলেজ সর্বত্র এখন হিন্দুদের দখলে। হিন্দুরাই হাসিনার হরিহর আত্মা। হিন্দুর নাতী হাসিনা হিন্দুদের এতোটাই ক্ষমতায়নের ব্যবস্থা করেছেন যে তার দলের মুসলমান নামধারী চামচারাও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন। এক বছরে ১৫ লাখ হিন্দু বেড়েছে কিভাবে? নিশ্চয় ভারতীয় নাগরিকদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে বাংলাদেশে।

একটি মুসলিম প্রধান রাষ্ট্রের একটি থানার ওসি কিভাবে বলে-‘এই মসজিদে যে নামাজ পড়বি সব অ্যারেস্টেড হবি’।

এই ওসি পিস্তল হাতে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের বের করে দিয়েছেন। তিনি হলেন গেণ্ডারিয়ার ওসি মিজান।

আরেকজন পুলিশ কর্তা ওসি মিজানকে শান্ত থাকতে বলেন, ‘আরে পিস্তল দেখাইয়েন না’।

সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিওতে মুসল্লিদের এভাবে পেটাতে দেখা যায়।

খবরে প্রকাশ, গেণ্ডারিয়া কাপুরিয়া নগর এলাকায় কোন মসজিদ ছিলো না তাই এলাকার তরুন মুসলমানরা এবং পাড়ার মুরুব্বি কয়েকজন মিলে একটা মসজিদ তৈরি করছে, যা এখনও সম্পূর্ণরূপে হয়নি। শুক্রবার দিন জুম্মার নামাজও পড়েছে এলাকাবাসী। মসজিদের ব্যাপারে হিন্দুদের শান্তি বিনষ্ট ও নিরাপত্তার অভিযোগ এনে হিন্দুরা গেণ্ডারিয়া থানায় অভিযোগ করে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছেও অভিযোগ করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আজ পুলিশ এসে জোহরের নামাজের পর সকল মুসল্লিকে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে ও মারধর করে মসজিদ থেকে বের করে দেয়।

স্থানীয়রা বলছেন, মুসুল্লিদের সাথে এই ধরনের আচরণ কোন মুসলমান দেশে সম্ভব সত্যি অবাক লাগে। পুলিশ কিভাবে বয়োঃজ্যৈষ্ঠ নামাজিদের তুই-তোকারি করতে পারে? মসজিদে হামলা চালাতে পারে? কোরআন ছুঁড়ে মারতে পারে? জুতা পায়ে মসজিদে ঢুকতে পারে?

গেন্ডারিয়া এলাকায় একটি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে হিন্দুদের নির্দেশে আজ রোববার দুপুরে মসজিদ ঘিরে পুলিশ অবস্থান নেয়।

মিলব্যারাক সমাজকল্যাণ সংগঠনসহ ৫ব্যক্তির নামে স্থানটি লিজ নেয়া হয় এবং ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই স্থানে কোনো মন্দির ছিল না। গত শুক্রবার মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি সেখানে নামাজ পড়া শুরু হয় এবং রোববার মসজিদটিতে জোহরের নামাজ আদায় করেছে মুসল্লিরা। কিন্তু গেন্ডারিয়া থানায় জিডি করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মুসল্লিদের উপর হামলা করে।

ভিডিওটি দেখে নিন…

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে

গেন্ডারিয়ায় মসজিদের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে বাধা দেয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে এভাবে প্রকাশ্যে মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের কতিপয় লোক মসজিদের আশপাশের মন্দিরের পক্ষাবলম্বন করে মুসলমানদের হৃদয়ে প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।

মসজিদ আল্লাহর ঘর।

মুসলমানের দেশে আল্লাহর ঘরে নামাজ আদায়ে বাধা দেয়ার মত ঘটনা ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে ঈমানের উপর চরম আঘাত। অবিলম্বে মসজিদের নির্মাণ কাজ চালু করে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করে দিতে ব্যর্থ হলে তৌহিদী জনতা ঈমানের তাগিদে রাস্তায় নেমে আসবে। তখন সরকারের কিছু করার থাকবে না।

স্যোশাল মিডিয়ায় চলছে সমালোচনার ঝড়। অনলাইন এক্টিভিস্টরা এ ঘটনায় তীব্র ঘৃণা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, বাংলাদেশ হিন্দুস্তানে পরিণত হয়েছে, বাংলাদেশ আর ভারতের মধ্যে কোন বর্ডার থাকা উচিত না, যারা মুসলমান তারা এখন এই দেশে সংখ্যালঘু।
একজন এক্টিভিস্ট লেখেন, প্রিয় বিবেকবান দেশপ্রেমিক মুক্তিযুদ্ধের চেতনাশীল নাগরীকগন আপনারা কিছু বলুন এবার। আজ যখন সংখ্যালঘু হচ্ছি, আজ যখন চারদিক থেকে পরাধীন হচ্ছি তখনো আমরা দ্বিধাবিভক্ত। ৪৫ বছর ধরে আমরা চিনতেই পারিনি কারা সত্যিকার রাজাকার কারা বর্গী!

আসুন শ্লোগান তুলি
আমরা সবাই হিন্দুস্তানী
নেতা মোদের নরেন্দ্র মোদী

আরেক এক্টিভিস্ট লিখেছেন, ভাবতেই আবাক হচ্ছি এটা বাংলাদেশ না-কি ইন্ডিয়া..??
কিন্তু প্রশ্ন হলো- এরা এতো সাহস পেলো কোথা থেকে….??
আজ যদি কোনো মন্দির থেকে পূজারত হিন্দুদেরকে এভাবে বের করে দেয়া হত তাহলে এতক্ষণে অবৈধ এমপি মন্ত্রী থেকে শুরু করে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী সহ মিডিয়া নামের পা’চাটা কুত্তা গুলো হৈচৈ শুরু করে দিত। কিন্ত এটা কোন মন্দিরের ঘটনা নয়, এটা ৯০% মুসলমানের দেশে নামাজরত মুসল্লিদেরকে বের করে দেয়া হয়েছে!!!
তাই ছদ্মবেশী মুসলমান(আসলে এরা প্রকৃত মুনাফিক) এতে তাদের কোন বক্তব্য বিবৃতি নেই। কারণ দাদাবাবুরা নাখোশ হয়ে যাবে।

এ ঘটনার সর্বশেষ সংবাদ হলো স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও পুলিশ একটি বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন যে, গেন্ডারিয়ার কালী চরণ সাহা রোডের ৩১ নং হোল্ডিং এ নির্মাণাধীন কাপড়িয়া জামে মসজিদে কোন নামায পড়া যাবে না। বা পড়তে দেয়া হবে না।

এটা যে কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরঞ্চ এ চিত্র এখন দেশব্যাপী তার প্রমাণ পাবেন নিচের সংবাদটিতে….

‘‘দিনাজপুরে মসজিদের ইমামকে হত্যার হুমকি, রুমে তালা

শীর্ষ নিউজ, দিনাজপুর: জেলার কতোয়ালী থানার মালিগ্রাম দীঘিপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সাদ্দাম হোসেনকে হত্যার হুমকির অভিযোগে পাওয়া গেছে।

জানা যায়, গত সপ্তাহের সোমবার বিকালে তিন সন্ত্রাসী ইমাম মাওলানা সাদ্দাম হোসেনকে হাত-পায়ের রগ ও গলা কেটে হত্যার হুমকি দিয়েছে।

ফলে ইমাম সাহেব গত ৮ দিন ধরে নিরাপত্তার অভাবে তার রুমে বসবাস করতে পারছেন না। বর্তমানে ইমাম সাহেব অন্যত্র রাত্রি যাপন করছেন। ফলে মুসল্লিদের নামাজ আদায়সহ তারাবির নামাজ আদায়ে বিঘ্ন ঘটছে।

সরেজমিনে শতাধিক ব্যক্তির অভিযোগে জানা যায়, ২০ জুন বিকাল ৬টায় মালিগ্রাম দীঘিপাড়ার মৃত মছিরউদ্দিন এর ছেলে আবুল কালাম আজাদ ওরফে হেফাজতি আজাদুর, রহমত আলী মাষ্টার ও আছির উদ্দিন সোমবার সন্ধ্যায় বিনা কারণেই ইমাম সাদ্দামকে ওই মসজিদের ইমামতি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বলে। এর ফলে ইমাম এর কারণ জানতে চান। এক পর্যায়ে উল্লেখিত তিন ব্যক্তিসহ ৭-৮ জন ইমামকে জীবন নাশের হুমকি দিয়ে বের করে দিয়ে রুম তালাবদ্ধ করে দেয়।

আরও জানা যায়, উল্লেখিত ব্যক্তিরা স্থানীয়ভাবে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য এবং স্থানীয় একটি বিশেষ (আওয়ামীলীগের) রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগসাজস থাকায় কেউ তাদের বিপক্ষে কথাবার্তা বলা তো দূরের কথা কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সাহস পাচ্ছে না। তবে এ ব্যাপারে ইমাম সাহেব নিজেই ২১ জুন ও মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে কোষাধ্যক্ষ এমাজ উদ্দিন ২৫ জুন কতোয়ালী থানায় দু’টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দু’টি অভিযোগেই ঊল্লেখিত ৩ ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযোগ আরো বলা হয়েছে উল্লেখিত ব্যক্তিরাসহ তাদের সহযোগিরা ইমাম সাহেবকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে এবং ওই মসজিদ কমিটির লোকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ষড়যন্ত্র করছে বলে একাধিক সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে।’’

পাঠক, পরিষ্কার হয়ে গেছে হাসিনা বাংলাদেশকে হিন্দুস্তান বানানোর পথে অগ্রসর হচ্ছে। সামান্য ঈমাণটুকু নিয়ে বাঁচতে হলে এখনই, আজই হাসিনার মহাজোটের মুনাফিক ও মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।

Source: NewsBD7

নিউজটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন

Leave a Reply

x

Check Also

বিপদে পড়লেই ‘জঙ্গি নাটক’ সাজায় সরকার

বিপদে পড়লেই ‘জঙ্গি নাটক’ সাজায় সরকার

বিপদে পড়লেই সরকার ‘জঙ্গি নাটক’ সাজায় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন ...

loading...