ব্রেকিংঃ
Home / সকল খবর / এমপি লিটনকি তাহলে নিজ দলের লকের হাতেই খুন হলো ! – বিস্তারিত
এমপি লিটনকি তাহলে নিজ দলের লকের হাতেই খুন হলো ! - বিস্তারিত

এমপি লিটনকি তাহলে নিজ দলের লকের হাতেই খুন হলো ! – বিস্তারিত

এমপি হত্যা : পেছনের রাজনীতি – আলফাজ আনাম

গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যার কারণ ও হত্যাকারীদের এখন পর্যন্ত খুঁজে বের করতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনার পর বেশ কিছু লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে। যার বেশির ভাগ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক। ঘটনার পর পুলিশের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তা ও ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার সাথে জামায়াত জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে নানা ধরনের তথ্য বেরিয়ে আসছে। গাইবান্ধা জেলায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি যথেষ্ট মজবুত। এই জেলায় অনেক প্রবীণ ও ত্যাগী নেতা রয়েছেন। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অনেক নতুন মুখ সামনে চলে আসে। সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন তাদের একজন।

মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন এমপি হওয়ার আগে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তেমন কোনো প্রভাব ছিল না। অপর দিকে গাইবান্ধা-১ আসন সুন্দরগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর শক্ত অবস্থান রয়েছে। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময় এই এলাকা থেকে জামায়াতের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে জামায়াত-শিবির বিরোধী অবস্থানের কারণে মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছেন। সংসদ সদস্য হত্যার ঘটনার পর জামায়াতকে দায়ী করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষপর্যায় থেকে বক্তব্য রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারা একই সুরে কথা বলেছেন। কিন্তু সুন্দরগঞ্জ ও গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি অত্যন্ত জটিল রূপ নিয়েছে। জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে যে সরলীকরণ করা হচ্ছে তাতে প্রকৃত অপরাধীদের আড়ালে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যার বিষয়টি নিয়ে আরো কিছু বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।

১.
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন তার নির্বাচনী এলাকায় শুধু জামায়াতে ইসলামী নয় তার দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীদের কোণঠাসা করে ফেলেন। এলাকায় নানা ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি সমালোচিত ছিলেন। ২০১৫ সালের অক্টোবরে এ সংসদ সদস্যের পিস্তলের গুলিতে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র শাহাদত হোসেন সৌরভ গুরুতর আহত হয়। এ সময় তার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে ওঠে। এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশের নেতারা। এ ঘটনার পর সংবাদপত্রে তাকে নিয়ে অনেক খবর প্রকাশ হয়। ৯ অক্টোবর ২০১৫ যুগান্তরের এক রিপোর্টে বলা হয়, ‘দুপুরের দিকে এ খবর (শিশু সৌরভ গুলিবিদ্ধ হওয়ার) গোটা উপজেলায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ লোকজন বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে নাগরিক কমিটির ব্যানারে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে।

এ সময় অনেককে জুতা হাতে দেখা গেছে। পরে ব্র্যাক মোড়ে স্বতঃস্ফূর্ত এক সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি গোলাম কবির মুকুল, আনিসুর রহমান চঞ্চল, মাসুদুর রহমান মাসুদ, বেলকা ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম, দহবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান মণ্ডল, গোলাম মর্তুজা হাসান টুকু, সাইফুল ইসলাম টুকু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, শিশু সৌরভ এমপির ছোড়া গুলিতে আহত হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। একজন এমপির কাছে একজন শিশু যদি নিরাপত্তা না পায় তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? সুন্দরগঞ্জ পৌরমেয়র আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন এর আগেও একাধিকবার মদ্যপ অবস্থায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অপকর্ম করেছেন যা দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ করেছে।’

যুগান্তরের এই রিপোর্টে আমরা দেখছি নিহত সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। আরো লক্ষণীয় দিক হলো তার নির্বাচনী এলাকার একাধিক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

২.
সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এই বিরোধ সম্প্রতি জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারো নতুন রূপ নেয়। এবারের জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানহ স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা। যাদের নিয়ন্ত্রণ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা। গাইবান্ধা জেলায় জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভাজন তীব্র রূপ নেয়। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন একাধিক সংসদ সদস্য। গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্যের সমর্থনে আরেকজন আওয়ামী লীগ নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে বিজয়ী হন স্বতন্ত্র প্রার্থী। যিনি এক সময় জাতীয় পার্টির নেতা ছিলেন। যাকে সমর্থন দিয়েছে জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া প্রভাবশালী একাধিক নেতা। নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের নির্বাচনী এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে। ফলে আওয়ামী লীগ প্রার্র্থীর পরাজয়কে ঘিরে দলের মধ্যে সঙ্ঘাত আরো বাড়তে থাকে। দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এমন কি পুলিশ দিয়ে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করছে এমন অভিযোগও উঠেছে।

৩.
সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যার সাথে উগ্রপন্থীরা জড়িত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। ঘটনার পর উত্তরাঞ্চলের সিনিয়র সাংবাদিক ও ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের উত্তরাঞ্চল সংবাদদাতা হাসিবুর রহমান বিলু একাধিক রিপোর্টে এই ঘটনার সাথে উগ্রপন্থীদের হামলার মিল আছে বলে লাইভ সম্প্রচারে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলছেন রংপুরে জাপানি নাগরিক হোসিও কোনিকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে একইভাবে হত্যা করা হয়েছে। মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অনেক পুরনো। ফলে তিনি উগ্রপন্থীদের টার্গেট হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তদন্তের ক্ষেত্রে এই দিকটি যথেষ্ট বিবেচনার দাবি রাখে।

ক্ষমতাসীন দলের প্রবল সমর্থক অনলাইন বার্তা সংস্থা বিডিনিউজ২৪-এর অনুসন্ধানী রিপোর্টে সংসদ সদস্য হত্যা নিয়ে নতুন কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এমপি লিটন হত্যাকাণ্ড শিরোনামে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের বৈঠকখানায় ঢোকার কয়েক ঘণ্টা আগেই তার বাড়ির সামনে পাঁচ যুবক ঘোরাফেরা করছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তারা বলেছেন, হামলাকারীরা খুনের আগে এই সংসদ সদস্যের সাথে কথাও বলেছিলেন। এরপর দুইজন বৈঠকখানায় ঢোকে অন্য তিনজন বাইরে ছিল। শনিবার সন্ধ্যায় ওই দুই যুবক বৈঠকখানায় ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই গুলির আওয়াজ পাওয়া যায়। এরপর ওই পাঁচ যুবক দ্রুত মোটরসাইকেলে চেপে পালিয়ে যায়। এই রিপোর্টে প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণে বলা হচ্ছে এমপির বাড়ির সামনের ছোট মাঠে এলাকার শিশু-কিশোররা খেলা করে। শনিবার বিকেলেও ১০-১২ জন কিশোর ক্রিকেট খেলছিল এবং বাড়ির সামনে চেয়ারে বসে লিটন সেই খেলা দেখছিলেন। খেলার সময়ই বিকেল ৪টা থেকে দুটি মোটরসাইকেলে আসা পাঁচ যুবককে আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখে ওই কিশোরের দল। তাদের একজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলে, সন্ধ্যার আগে তাদের খেলা যখন সমাপ্ত তখন দুই যুবক গিয়ে এমপি লিটনের সাথে কথা বলে।

“দুইজন মোটরসাইকেল থেকে নেমে এমপি সাহেবের সাথে কথা বলে। এমপি সাহেব তাদের বৈঠকখানায় বসতে বলেন। তারা মাঠে কথা বলে চলে যাওয়ার তাড়া দিচ্ছিল। কিন্তু এমপি সাহেব বলেন, ‘সন্ধ্যা হয়েছে বৈঠকখানায় চলেন।’ এরপর তারা বৈঠকখানায় চলে যান।

ওই সময় বাইরে মোটরসাইকেলের সাথে থাকা তিনজন খেলা শেষ করে ওই কিশোরদের বাড়ি ফেরার তাড়া দেয়। ‘বাড়ির দিকে রওনা হওয়ার পরপরই গুলির শব্দ শুনি’ বলে ওই কিশোর। গৃহকর্মী সাজেদুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘সুনেন্দ্রকে খুঁজতে গিয়ে না পেয়ে বাড়ি ফিরে দেখি, স্যারের সাথে দুই যুবক বৈঠকখানায় বসে আছে। আমি সেখানে গেলে ওই লোকজন আমাকে পান আনতে বলে। আমি বাড়ির পাশে এক দোকান থেকে পান নিয়ে ফেরার পথে গুলির শব্দ শুনতে পাই।’

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনকে উদ্ধৃত করে এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সন্ধ্যা ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ওই দুইজনের সাথে কথা বলার জন্য এমপি বাইরের বৈঠকখানায় যখন ঢোকে তখন তার স্ত্রী ও শ্যালকও ছিলেন তার সাথে। কিন্তু ওই যুবকদের একজন ‘স্যারের সাথে আমরা প্রাইভেট কথা বলতে চাই’ বলার পর স্ত্রী ও শ্যালক পাশের ঘরে চলে যান। কিছুক্ষণের মধ্যে গুলির শব্দ শুনতে পেয়ে ছুটে এসে লিটনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পান তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের এই বিবরণে দেখা যাচ্ছে সংসদ সদস্যকে যে যুবকরা হত্যা করেছে তাদের সাথে তিনি কথা বলেছেন। বাড়ির বাইরে থেকে তাদের ডেকে ভেতরে নিয়ে গেছেন। তিনি তাদের সাথে স্বাভাবিক আচরণ করেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে এই যুবকরা কী সংসদ সদস্যের পরিচিত ছিলেন? এ ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যের স্ত্রীও ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন তার বক্তব্য এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। লিটনের স্ত্রীও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। স্থানীয় রাজনীতিতে তারও প্রভাব আছে। লিটন হত্যা মামলায় বাদী হয়েছেন তার বোন, স্ত্রী নন এ নিয়েও প্রশ্ন আছে। আরো গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে একজন সংসদ সদস্য যিনি এলাকায় নানা কারণে বিতর্কিত এবং দলের ভেতর বাইরে যার শত্রু আছে বলে প্রতিষ্ঠিত তার নিরাপত্তার ব্যাপারে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না।

অপর দিকে, সংসদ সদস্যর নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। তার ক্যাডারবাহিনীও আছে। কিন্তু এদিন তার বাড়ি ছিল একেবারেই ফাঁকা। অথচ একজন সংসদ সদস্যর বাড়ি সবসময় সরগরম থাকে। সংসদ সদস্যের অজান্তেই তার বাড়ি কী আগে থেকেই ফাঁকা করা হয়েছিল? সংসদ সদস্যের ভাই বলেছেন, ভাড়াটে খুনি দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, কারা খুনিদের ভাড়া করেছে? তদন্তের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের এসব দাবি অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই।

সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডের নির্মোহ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দেশের রাজনীতিবিদদের নিরাপত্তার জন্য জরুরি। এই হত্যাকাণ্ডের পর কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়া যেভাবে জামায়াত-শিবিরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে তাতে প্রকৃত অপরাধীরা হয়তো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের অভিযান রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৪ সালের আগে এই এলাকায় অনেক সহিংস ঘটনা ঘটলেও সংসদ সদস্যর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেনি। দেশে কোনো ঘটনা ঘটলে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে জামায়াত বা বিএনপিকে দায়ী করা হয়। রাজনৈতিক ফায়দা লোটার এমন মানসিকতার কারণে অপরাধীরা এক ধরনের রাজনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে। বর্তমানে জামায়াতের বেশির ভাগ নেতাকর্মী জেলে কিংবা এলাকা ছাড়া। এমন দুর্বল রাজনৈতিক অবস্থানে একজন সংসদ সদস্যকে হত্যার সাথে জামায়াতের জড়িত হওয়া হবে আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। রাজনীতির এই সরল হিসাব বোঝার ক্ষমতা নিশ্চয়ই জামায়াতের আছে। এই সংসদ সদস্য হত্যার যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব না হয় তাহলে রাজনীতিবিদদের নিরাপত্তাহীনতা আরো বাড়বে।

সূত্রঃ নয়া দিগন্ত

নিউজটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন

Leave a Reply

x

Check Also

যারা মাথায় ঘোমটা দেয়, টুপি পরে, দাড়ি রাখে তারা আর যাই হোক বাঙালী হতে পারেনা: মিতা হক

যারা মাথায় ঘোমটা দেয়, টুপি পরে, দাড়ি রাখে তারা আর যাই হোক বাঙালী হতে পারেনা: মিতা হক

যেসব নারী ঘোমটা যারা করে, মুখ ও মাথা ঢেকে রাখে এবং যেসব পুরুষ দাড়ি রেখে ...

loading...