ব্রেকিংঃ
Home / সকল খবর / ৫ জানুয়ারি: একটি ভুয়া নির্বাচন, ভুয়া সংসদ, ভুয়া সরকার ও ভুয়া বিরোধিদল – শফিক রেহমান
৫ জানুয়ারি: একটি ভুয়া নির্বাচন, ভুয়া সংসদ, ভুয়া সরকার ও ভুয়া বিরোধিদল - শফিক রেহমান
৫ জানুয়ারি: একটি ভুয়া নির্বাচন, ভুয়া সংসদ, ভুয়া সরকার ও ভুয়া বিরোধিদল - শফিক রেহমান

৫ জানুয়ারি: একটি ভুয়া নির্বাচন, ভুয়া সংসদ, ভুয়া সরকার ও ভুয়া বিরোধিদল – শফিক রেহমান

শেখ হাসিনার সরকারের পাচ বছর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবার আগে ২০১৩ জুড়ে চলে শেখ হাসিনা সংশোধিত সংবিধানের অধীনে (যে সংশধনের কোনো ম্যানডেট ছিল না) যেন বিএনপি ও বিরোধী দলগুলো পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেয় সেই লক্ষ্যে আসতে থাকে তাদের প্রতি ইন্ডিয়ার চাপ এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইওরোপিয়ান ইউনিয়নের অনুরোধ। এমন কি বিএনপির মধ্যে একটি অংশও চাইছিলেন নির্বাচনে যেতে। কিন্তু খালেদা জিয়া অনুমান করেন নির্বাচনে কারচুপি করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে যাবে এবং দুই. নির্বাচনে বিরোধী দল রূপে ‘নির্বাচিত’ করা হবে জাতীয় পার্টিকে। পরবর্তীকালে খালেদা জিয়ার দুটি অনুমানই সত্যি প্রমাণিত হয়।

৫ জানুয়ারি ২০১৪-র নির্বাচনে আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যান ১৫৩ জন। নির্বাচনের দিন ৫৯ জেলার বাকি ১৪৭ আসনে যে প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, তাদের বেশির ভাগই ভোট দিতে যাননি। দেশের ১৯টি কেন্দ্রে একটিও ভোট পড়েনি। যেমন, লালমনিরহাট- ৩ আসনে ২৭টি কেন্দ্রের কোনোটিতেই ভোট পড়েনি। ১৬টি কেন্দ্রে ভোট পড়ে ১ থেকে ৬৩!

উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় ভোটার ছিল সবচেয়ে কম। অর্ধেক কেন্দ্রে ভোট গ্রহণই হয়নি। রাজশাহী, পাবনা, চাপাইনবাবগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, কক্সবাজার, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ, ফেনী ও ঢাকার অধিকাংশ আসনে ভোটার উপস্থিত কম ছিল।
এর মধ্যে প্রাপ্ত হিসেবে দেখা যায়, মিনিটে ১৮ ভোট পড়েছে ঢাকা- ১৮ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে। আবার নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের, করিমগঞ্জ ও তাড়াইল এবং সিরাজগঞ্জ- ৫, রাজশাহী- ৬, লক্ষ্মীপুর- ৪ প্রভৃতি আসনের কয়েকটি জায়গায় ব্যাপক জাল ভোট দেওয়ার পরও ভোটার উপস্থিতি খুব বেশি দেখানো যায়নি। এ জন্য ভোট গ্রহণ শুরু পর নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন ১৯ প্রার্থী। পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনা তার পীরগঞ্জের আসন ছেড়ে দিলে সেখান থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন শারমিন চৌধুরী শিরীন। এর ফলে মোট ১৫৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া প্রার্থীরা নির্বাচিত হন।

৫ জানুয়ারি ২০১৪-র প্রহসন নির্বাচনের পর জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দলের মর্যাদা দেয় বিজয়ী আওয়ামী লীগ। সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী রূপে আসন নেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হু. মো. এরশাদের স্ত্রী মিসেস রওশন এরশাদ। কিন্তু এরশাদ হন মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এবং তার দল থেকে মন্ত্রী হন তিন জন (আনিসুল ইসলাম মাহমুদ , মুজিবুল হক চুন্নু ও মশিউর রহমান রাঙ্গা)। প্রেমিক এরশাদ বহু প্রেমের নৌকায় পা রাখতে কুশলী হলেও তার পার্টিকে যুগপৎ বিরোধী ভুমিকায় ভুমিকায় এবং সরকারি নৌকায় রাখতে বছর জুড়ে তিনি হিমসিম খেয়েছেন। জাতীয় পার্টির শীর্ষ পর্যায়ে প্রচ- মতানৈক্য প্রকাশ পেয়েছে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যারা বিশ্বাস করেন, তারা অভিযোগ করেছেন ইনডিয়া পোষিত শেখ হাসিনা শুধু যে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রক্রিয়া ধ্বংস করেছে তা নয় তিনি বিরোধী দলের কনসেপ্টও ধ্বংস করেছেন।

২০১৪ তর্ক চলতে থাকে বিশেষত বিএনপির মধ্যে, নির্বাচন বর্জন করাটা ভুল হয়েছিল কি না?
সেই তর্কের শেষ হয় ১ নভেম্বরে যখন শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ. টি. ইমাম গোমর ফাক করে দেন। ওইদিন টিএসসিতে ছাত্রলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এইচ. টি. ইমাম সগর্বে বলেন, ‘নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ পুলিশ ও প্রশাসনের যে ভুমিকা, নির্বাচনের সময় আমি তো প্রত্যেকটি উপজেলায় কথা বলেছি, সব জায়গায় আমাদের যারা রিক্রুটেড, তাদের সঙ্গে কথা বলে, তাদের দিয়ে মোবাইল কোর্ট করিয়ে আমরা নির্বাচন করেছি। তারা আমাদের পাশে দাড়িয়েছে, বুক পেতে দিয়েছে।’ এই ঘোষণার পর ট্রিকি ইমাম নামে কুখ্যাত হন এইচ. টি. ইমাম ।

আর খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্ত যে ১০০% সঠিক ছিল সেটা হয় প্রমাণিত ।

একটি ভুয়া সাধারণ নির্বাচনে যে একটি ভুয়া সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে স্বৈরাচারী এবং এক দলীয় শাসনকামী আওয়ামী লীগ, সেটাও হয়ে যায় সুস্পষ্ট ।

Source: Onno Digonto

নিউজটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন

Leave a Reply

x

Check Also

ছাত্রদল নেতা নুরু হত্যায় পুলিশের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমান রেডি, নুরুর স্ত্রী মামলা করেছেন পুলিশের নামে

ছাত্রদল নেতা নুরু হত্যায় পুলিশের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমান রেডি, নুরুর স্ত্রী মামলা করেছেন পুলিশের নামে

ক্যাপ্টেন(অবঃ)মারুফ রাজুঃ সাম্প্রতিক কালে বহুল আলোচিত  ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম নুরু কে চট্রগ্রামে ...

loading...