ব্রেকিংঃ
Home / সকল খবর / শেখ হাসিনার গোপন বৈঠকের তথ্য ফাঁস: ১৭ সালে নির্বাচন
শেখ হাসিনার গোপন বৈঠকের তথ্য ফাঁস: ১৭ সালে নির্বাচন
শেখ হাসিনার গোপন বৈঠকের তথ্য ফাঁস: ১৭ সালে নির্বাচন

শেখ হাসিনার গোপন বৈঠকের তথ্য ফাঁস: ১৭ সালে নির্বাচন

তাজউদ্দীন: আগামী বছরের শুরুতেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনের তফসিল ও রূপরেখা নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি অনানুষ্ঠানিক গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত গোপন বৈঠকে আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সম্পাদকগণ। খুবই গোপনীয়তার সাথে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভির এক ঘনিষ্ঠ সূত্র নাম না প্রকাশের শর্তে জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাদের গোপন বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে নির্বাচনের তফসিলের তারিখ, নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচনে যেভাবে হোক জয়ী হওয়া এবং বিএনপিকে কোণঠাসা করে রাখার বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণোয়ন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ও বিদেশিদের চাপের কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

এই গোপন বৈঠকের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে হতাশার ছাপ লক্ষ্য করা যায়। একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সাথে এ বিষয়ে আলাপকালে জানা যায়, তারা এই বৈঠক সম্পর্কে অবগত নন। তবে বৈঠক হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে তারা খবর পেয়েছেন। ধারণা করছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়েই উক্ত বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী ও সভানেত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে এখনই দলের নেতাকর্মীদের তেমন কিছুই জানাতে চাচ্ছেন না। তবে নির্বাচনের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তারা।

সংবিধান অনুযায়ি একটি সরকারের বৈধ মেয়াদ ৫ বছর। সে হিসেবে মহাজোট সরকারের সময় শেষ হবে ২০১৮ সালে। কিন্তু ২০১৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনটি দেশে বিদেশে কোথাও গ্রহণযোগ্য হয়নি। বৈধতা পায়নি। দশম জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে রক্তক্ষয়ী প্রতিবাদ করা হলেও শেখ হাসিনা ভারতের সহযোগিতায় অবৈধ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে। সে নির্বাচনে ভোট দিয়েছে মাত্র ৫ ভাগ ভোটার। তাও আবার হাসিনা বাহিনীর ভয়ে। নির্বাচনের আগেই ১৫৪ আসনে সাংসদরা বিজয়ী অর্থাৎ, জনগণের ভোট ছাড়াই সরকার গঠন হয়ে গেছে। যা সম্পূর্ণ সংবিধান পরিপন্থী। তারপরও ফ্যাসিস্ট কায়দায় রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে হাসিনা সরকার ভারতের সরাসরি সমর্থনে ক্ষমতায় জোর করে বসে আছে।

আওয়ামীলীগ মুখে মুখে যতই হুঙ্কার ছাড়ুক দলটি আসলে বাঘের পীঠে বসে আছে। না নামলেও বিপদ, নামলেও বিপদ। হাসিনা যতই হুঙ্কার ছাড়ুক আর গণমাধ্যমকে দিয়ে টিকে থাকুক কিন্তু হাসিনা নিজেই শেষ সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেছেন, তিনি এখন ক্লান্ত, পদ ছেড়ে দিতে চান। কিন্তু বাঘের পীঠ থেকে নামলেইতো ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে পড়তে হবে। আর এ কারণেই হাসিনা জোর করে ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে গণরোষের মুখে পড়ার চাইতে যতদিন জনগণকে দমিয়ে রেখে স্বৈরাচারদের মতোই ক্ষমতায় থাকা যায়। কিন্তু বিদেশিদের চাপ এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির পথটা খোলা রাখতে হাসিনাকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পথে পা বাড়াতে হচ্ছে।

অনেকে ভাবছেন, হাসিনাতো শক্তিশালী অবস্থানে আছেন তাহলে কেন নির্বাচন দিবে? বাস্তবতা হলো এই অবৈধ ক্ষমতা যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে পরবর্তীতে হাসিনার আবার ফিরে আসার সম্ভাবনা ততই দূরে সরে যাচ্ছে। হাসিনার এক্সিটের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আওয়ামীলীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতি একেবারেই ধ্বংসের মুখে নিমজ্জ্বিত হচ্ছে। কারণ বিএনপিও একবার ক্ষমতায় বসতে পারলে হাসিনার মতোই গেড়ে বসবে তখন কী হবে???

অনানুষ্ঠানিক গোপন বৈঠকের স্থান এখনও নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও একাত্তর টিভির কর্ণধার মোজাম্মেল বাবুর একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হিলারী ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট হলে তা হবে আওয়ামীলীগের জন্য খুবই ভয়ঙ্কর বার্তা। বাংলাদেশের বিষয়ে হিলারীর নাক গলানোর আগেই নির্বাচন করতে চায় আওয়ামীলীগ। আর বিএনপিকে ধোঁয়াশায় রেখে নির্বাচনে গেলে আওয়ামীলীগের আবার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।

সূত্র আরও জানায়, ১৯ সাল পর্যন্ত এ সরকার ক্ষমতায় থাকলে স্বাভাবিকভাবেই আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক ভিত্তি দূর্বল হবে। প্রশাসনিক ভিত্তিও দূর্বল হবে। আর বিএনপি শক্তিশালী হয়ে উঠবে। বিএনপির নেতাকর্মীরা ১৯ সালের আগে ক্ষমতায় আসার জন্য মরণ-কামড় দিবে আর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা সম্পদ ও জীবন বাঁচাতে গা ঢাকা দিবে। এ কারণে বিএনপিকে দুর্বল অবস্থায় রেখে আর আ’লীগকে শক্তিশালী অবস্থায় রেখেই নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

এসব কারণ বিশ্লেষণ করে, সাথে বিদেশিদের কথাও দেরিতে হলে রাখার চিন্তা থেকে হাসিনা নির্বাচনের পথে আগাচ্ছে। এবং এক্সিটের বিষয়ে এখনই উইন উইন সিচ্যুয়েশনে আলোচনা করা যাবে। নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে বিএনপি ছাড় দিয়ে নির্বাচনে আসবে যেটা ১৯ সাল পর্যন্ত গড়ালে বিএনপি সে ছাড় দিবে না। আর এক্সিটের শর্ত নিয়ে আলোচনাও সম্ভব হবে না। সবমিলিয়ে জাতীয় সম্মেলনের মধ্যদিয়ে দলকে শক্তিশালী করে দ্রতই নির্বাচনের ব্যবস্থার পথে মহাজোট সরকার।

গোপন বৈঠকে এসব বিষয়েই আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। আর নির্বাচনে জিততে আরও কিছু গোপন নীলনক্সা প্রণীত হয়েছে সেসব খবর জানার চেষ্টা চলছে। আশা করি সূত্রগুলো থেকে সেসব সংবাদ খুব শিগগিরই জানা যাবে। তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, নির্বাচনের সময় কিভাবে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ ও নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করা যায় তার পুরো প্রস্তাবনা তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মোজাম্মেল বাবুকে। আন্তর্জাতিক বিষয় দেখাশোনার দায়িত্ব ও প্রস্তাবনা পেশ করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে গওহর রিজভিকে। প্রশাসনিক ও নির্বাচনে যেকোন মূল্যে জেতার জন্য করণীয় ঠিক করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এইচ টি ইমামকে। সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে প্রভাবশালী কয়েকজন নেতাকে। তবে তাদের নাম এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। কতিপয় ব্যবসায়িক নেতাদের সাথে অর্থের যোগানের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। তবে সূত্র মতে, মূল আলোচনার সময় ব্যবসায়িক কোন নেতাকে রাখা হয়নি। শুধু দলীয় নেতা, উপদেষ্টারা ও বাছাইকৃত গণমাধ্যম সম্পাদকরাই ছিলেন।

যাহোক শেখ হাসিনা নীল নক্সার নির্বাচনের জন্য যতই গোপন বৈঠক করুক জনগণ চায় যেভাবে হোক একটি নির্বাচন। জনগণের সরকার রাষ্ট্রপরিচালনায় থাকুক সেটাই জাতির প্রত্যাশা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে রাজনীতির হিসেব নিকেশ সব পরিবর্তন হয়ে যাবে। শেখ হাসিনার সাজানো বাগানও এখনকার মতো নিয়ন্ত্রিত থাকবে না। অতীত ইতিহাস তাই বলে। সব সরকারই বিদায়ের আগে পরবর্তী নির্বাচনে জিততে সবরকম ব্যবস্থা নিয়ে রাখে। কিন্তু দ্বিতীয়বার আর ক্ষমতায় আসতে পারে না।

Source: NewsBD7

Leave a Reply

x

Check Also

সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রনে নেবে ভারত! বিনিম​য়ে ফের ক্ষমতায় হাসিনা! – মোদির প্রতিশ্রুতি

সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রনে নেবে ভারত! বিনিম​য়ে ফের ক্ষমতায় হাসিনা! – মোদির প্রতিশ্রুতি

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ড. এস জয়শঙ্কর এক ঝটিকা সফরে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় আসছেন। ঢাকাই ...