ব্রেকিংঃ
Home / সকল খবর / জাতির সামনে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে তারপর শহীদ জিয়ার পদক কেড়ে নিন

জাতির সামনে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে তারপর শহীদ জিয়ার পদক কেড়ে নিন

শহীদ জিয়ার পদক কেড়ে নেবার আগে যে প্রশ্নগুলোর জবাব জাতি জানতে চায়

তাজউদ্দীন: একদিকে শেখ মুজিবের কোন ধরণের বিরোধিতা করলেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানা রেখে আইন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারটি কেড়ে নেয়া হচ্ছে।

আদালত কর্তৃক নির্দিষ্ট ইতিহাসের বাইরে কোন ইতিহাস লিখলেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে এরকম আইন কোন বর্বর যুগেও ছিল বলে আমার জানা নেই। শেখ মুজিবকে নিয়ে আওয়ামীলীগের মিথ্যা ইতিহাস ঢাকতে এবং জনগণের সামনে তার মুখোশ খুলে যাবার ভয়েই এসব আইন করা হচ্ছে। আর অন্যদিকে শহীদ জিয়াকে কবর থেকে পর্যন্ত তুলে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে। তার কারণ কী? কারণ একটাই শেখ মুজিব রয়েছে মিথ্যা ইতিহাসের পাতায় পাতায়। তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে জোর জুলুম ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের প্রয়োজন পড়ে। আর শহীদ জিয়া রয়েছেন মানুষের অন্তরে। মানুষের অন্তর থেকে সরাতে না পেরে মানুষের স্মৃতি থেকে সরিয়ে ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে এ গোয়েবলসীয় সরকার।

ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে- টিট ফর টেট। বাংলায়- ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়। আপনি যখন একদিকে শেখ মুজিবকে দেবতার আসনে বসাবেন আর আরেকজনকে নর্দমায় ফেলতে চাইবেন তখন অন্যরাও আপনাকে টেনে নর্দমায় নিয়ে আসবে। যত আইন করেন আর আর যাই করেন না কেন শহীদ জিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালালে শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিকরা নিশ্চয় আপনার পিতার ফানুস ধরে টান মারবেই। এটাই স্বাভাবিক।

জাতীয় দৈনিকগুলোর খবরে প্রকাশ-

‘‘প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পদকটি জাতীয় জাদুঘর থেকে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বুধবার জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এটি অনুমোদনের জন্য শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হবে। এই সুপারিশ প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দেয়ার পর তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

২০০৩ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার জিয়াউর রহমানকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেয়। ওই সময় জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। সে সময় পুরস্কারের মেডেল, সম্মাননাপত্র কোনো উত্তরাধিকারীকে না দিয়ে বাংলাদেশ জাদুঘরের একটি কর্নারে যথাযোগ্য মর্যাদায় সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

চলতি বছরের জুলাই মাসে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে একটি নথি কমিটিতে পাঠানো হয়। যেখানে প্রয়াত জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতি পদ বা রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণের বিষয়টি হাইকোর্টে রিট পিটিশন আদেশের মাধ্যমে অবৈধ ঘোষণার কথা উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া নথিতে স্বাধীনতা পুরস্কার সংক্রান্ত সংশোধিত নির্দেশমালার বিষয় উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। তাই এই পুরস্কারের জন্য চূড়ান্তভাবে প্রার্থী নির্বাচনকালে দেশ ও মানুষের কল্যাণে অসাধারণ অবদান রেখেছেন এমন সীমিত সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেই বিবেচনা করা হয়।

জানা গেছে, জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো প্রাধান্য দিয়েছে এর মধ্যে অন্যতম হাইকোর্টের রায়। যেখানে রায়ের প্রথমেই বলা হয়, ১৯৭৫-এর নভেম্বর থেকে ১৯৭৯ সালের মার্চ পর্যন্ত সংসদ ছাড়াই বাংলাদেশে সরকার চলেছে। একনায়কতন্ত্র হিসেবে দেশ চালিয়েছে সরকার। যেখানে ছিল না কোনো গণতন্ত্রের ছোঁয়া।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কমিটি সুপ্রিমকোর্টের আপিলেট ডিভিশনের আদেশটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। সেখানে বলা হয়, ‘সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের শাস্তি পাওয়া উচিত। যেন মানুষ সংবিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ভয় পায়।’ যেহেতু রাষ্ট্রপতি হিসেবে জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা আরোহণকে আপিলেট ডিভিশন অবৈধ ঘোষণা করেছেন, সুতরাং এটিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে আমলে নিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি।

এছাড়া কমিটি মনে করে, স্বাধীনতা পুরস্কার সংক্রান্ত ২০১৬ সাল পর্যন্ত সংশোধিত নির্দেশাবলী ২০০৩ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ পুরস্কার জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হলে আগামী প্রজন্মের কাছে তা ভুল ইতিহাস হিসেবে উপস্থাপিত হবে। একইসঙ্গে একটি ভুল বার্তা যাবে। যে কারণে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’’

পাঠক, আওয়ামীজোট সিদ্ধান্ত নিয়েছে শহীদ জিয়ার স্বাধীনতা পুরস্কার কেড়ে নিবে। জাদুঘর থেকে সে পুরস্কার সরিয়ে ফেলা হবে। আপনারা কী জানেন স্বাধীনতা পুরস্কার কে কবে চালু করেছিলেন? এ পুরস্কার চালু করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম। তিনি ১৯৭৭ সালে এ পুরস্কার চালু করেন।

আর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয় ২০০৩ সালে। চার দলীয় জোট সরকার এ পুরস্কারে তাঁকে ভূষিত করেন। একই সাথে আরেকজনকে বেগম খালেদা জিয়া পুরস্কার দিয়েছিলেন। তার নাম কী জানেন? জী হ্যাঁ, তিনি আজকের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিব।

২০০৩ সালে বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে শেখ মুজিবকেও স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করেছিলেন। আর ২০১৬ সালে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের স্বাধীনতা পুরস্কার কেড়ে নেবার জন্য মন্ত্রী পরিষদে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

এবার আওয়াজোটের মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি প্রশ্ন:

প্রশ্ন ১: যেহেতু বলা হচ্ছে সুপ্রিমকোর্টের আপিলেট ডিভিশন কর্তৃক জিয়াউর রহমানের সরকারকে অবৈধ সরকার বলা হয়েছে, বলা হয়েছে জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন, সেহেতু তার স্বাধীনতা পুরস্কার কেড়ে নেয়া উচিৎ। প্রশ্ন হলো, তাহলে এই অবৈধ সরকার যে স্বাধীনতা পুরস্কারের প্রথা চালু করেছেন সেটা কেন অবৈধ হবে না?

প্রশ্ন ২: যেখানে রায়ের প্রথমেই বলা হয়েছে, ১৯৭৫-এর নভেম্বর থেকে ১৯৭৯ সালের মার্চ পর্যন্ত সংসদ ছাড়াই বাংলাদেশে সরকার চলেছে। একনায়কতন্ত্র হিসেবে দেশ চালিয়েছে সরকার। যেখানে ছিল না কোনো গণতন্ত্রের ছোঁয়া। সেহেতু সে সরকার অবৈধ। তাহলে ১৯৭৭ সালে চালু করা স্বাধীনতা পুরস্কারটিই কেন অবৈধ হবে না, মিস্টার মন্ত্রীসভা কমিটির সদস্যগণ?

প্রশ্ন ৩: কমিটির মিস্টার সদস্যবৃন্দ, সে হিসাবে ২০০৩ সালে শেখ মুজিবকে যে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয়েছে সেটাও আল্টিমেটলি অবৈধ? তাহলে তার পুরস্কারটিও কেড়ে নেয়া হবে না কেন?

প্রশ্ন ৪: মন্ত্রীসভায় বৈঠকে শহীদ জিয়ার স্বাধীনতা পুরস্কার কেড়ে নেবার ক্ষেত্রে কারণ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে আদালত কর্তৃক একটি রায়। কিন্তু সে রায়েতো কোথাও বলেনি যে, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। বা স্বাধীনতাযুদ্ধে তাঁর কোন অবদান নেই। তাহলে কেন তাঁর পদকটি কেড়ে নেয়া হবে? শুধুমাত্র আওয়ামী আদালতের বক্তব্য অনুযায়ি, তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল করেছেন সে অজুহাতেতো? তাহলে সে সময় নেয়া সব সিদ্ধান্তই অবৈধ? তাহলে এ পুরস্কারের প্রথাটি কেন বাতিল করা হবে না? কেন যারা যারা এ পুরস্কার পেয়েছেন তাদের পুরস্কারও ছিনিয়ে নেয়া হবে না? বিশেষ করে শেখ মুজিবের পুরস্কারটির কী হবে? যেহেতু শহীদ জিয়ার পদক কেড়ে নেবার কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে তিনি অবৈধ ভাবে ক্ষমতায় বসেছেন।

প্রশ্ন ৫: এরপর সরকার পরিবর্তন হলে আদালত যদি এই হাসিনা সরকারকে অবৈধ ঘোষণা দেয়, তাহলে এই সিদ্ধান্তের কী হবে? কারণ গণতন্ত্র মানে অধিকাংশ জনগণের মতামতের প্রতিফলন। এবং সরকার গঠন হবে অধিকাংশ মানুষের ভোটাধিকারের মাধ্যমে। কিন্তু মাত্র ৫ ভাগ ভোট নিয়ে এ সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। সে হিসেবে এ সরকার একটি অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য সরকার।

এভাবে শহীদ জিয়াকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না। ইতিহাস কোন দলের নয়, কোন ব্যক্তির নয়, কোন আদালতের নির্দিষ্ট ভাষা নয়। ইতিহাস জনগণের। ফরাসি বিপ্লবের সঠিক ইতিহাস এখনো অনুসন্ধান করা হচ্ছে। রুশ বিল্পবের সময় স্টালিন এবং ট্রটস্কির ভূমিকা নিয়ে লাখ লাখ পাতা লেখা হচ্ছে। বাংলাদেশেও মিথ্যা ও জঞ্জালের ইতিহাস অন্ধকার ভেদ করে সূর্যের ন্যায় সত্য ইতিহাস উদ্ভাসিত হবেই।

মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামীলীগ ও মুজিবের অবস্থান বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ বলেই মিথ্যা ইতিহাসকে জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। জোটটির প্রত্যেকে মিথ্যা ইতিহাসকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। মিথ্যেকে তারা পূজো করছেন। এর একমাত্র কারণ মিথ্যে বলেই তাদের রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে হচ্ছে। সত্যিকার ইতিহাসকে এভাবে আইন করে প্রতিষ্ঠা করতে হয় না। আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখেও প্রতিষ্ঠা করতে হয় না। ইতিহাস লিখেন ঐতিহাসিকগণ। কোন বিচারক নন।

ইতিহাসকে নিয়ে আওয়ামীজোটের যে অনুদারতা, মিথ্যাচার ও দলীয়করণ তার বিরুদ্ধে জাতিকে সোচ্চার হতে হবে। শহীদ জিয়ার অবমাননা মানে স্বাধীনতার অবমাননা। স্বাধীন বাংলাদেশের অবমাননা। তিনি কোন পলাতক বা আত্মসমর্পণ করা নেতা নন। তিনিই প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে, সম্মুখ যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে দেশটাকে স্বাধীন করেছেন। তাঁকে যারা অপবাদ দেন, তাঁর নামে মিথ্যাচার করেন তাদের কারোই স্বাধীনতা যুদ্ধে তিলমাত্রও অবদান নেই। যে কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সে কমিটি স্বাধীনতা যুদ্ধে এক ফোঁটা ঘামও উৎসর্গ করেননি। অবিলম্বে হাসিনা সরকারের এই অনুদার ও দলীয় সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। নচেৎ ইতিহাসের ন্যাচারাল ডেসচার হলো: ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। ৭৫ সালেও করেনি। এই একবিংশ শতাব্দীতেও করবে না।

Leave a Reply

x

Check Also

সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রনে নেবে ভারত! বিনিম​য়ে ফের ক্ষমতায় হাসিনা! – মোদির প্রতিশ্রুতি

সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রনে নেবে ভারত! বিনিম​য়ে ফের ক্ষমতায় হাসিনা! – মোদির প্রতিশ্রুতি

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ড. এস জয়শঙ্কর এক ঝটিকা সফরে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় আসছেন। ঢাকাই ...