ব্রেকিংঃ
Home / সকল খবর / নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আওয়ামীলীগ পাবে ৫০-৫৫ সিটঃ আওয়ামীলীগেরই জরিপ

নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আওয়ামীলীগ পাবে ৫০-৫৫ সিটঃ আওয়ামীলীগেরই জরিপ

অলিউল্লাহ নোমান: নিশ্চিত ভরাডুবির আশঙ্কা আওয়ামীলীগের।

আওয়ামী লীগ ৫০-৫৫।

বিএনপি ১৫২-১৫৬

জামায়াত ২৫-৩০

জাতীয় পার্টি ৭

বাকী আসন অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র

আওয়ামী লীগের একটি থিঙ্কট্যাঙ্ক সুপারিশ করেছে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা যাবে না। নির্বাচন কমিশনে তাদের নিবন্ধনও বাতিল করা চলবে না। যে কোন মূল্যে ২০ দলীয় জোটে ভাঙ্গন সৃষ্টি করে জামায়াতে ইসলামীকে পৃথকভাবে ইলেকশন করার সুযোগ করে দিতে হবে। আগামী নির্বাচন নিয়ে এক আগাম জরিপে এই সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমান অবস্থায় নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগে ভরাডুবি বিষয়টিও উঠে এসেছে এই জরিপে। ভরাডুবি ঠেকাকে আওয়ামী লীগের কি করা উচিত সেই দিক নির্দেশনাও রয়েছে এতে। ইতোমধ্যে জরিপের ফলাফল ও সুপারিশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও হস্থান্তর করা হয়েছে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠু হলে আওয়ামী লীগ কত আসন পেতে পারে? জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে আওয়ামী লীগের ভরাডুবির আশঙ্কা রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বেড়েছে শেখ হাসিনার। জনগনের আস্থা ও জনপ্রিয়তা দুইটাই এখন শেখ হাসিনার রয়েছে। তবে দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তায় ধ্বস নেমেছে। এতে উঠে এসেছে নির্বাচন কিছুটা সুষ্ঠু হলে আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৫৫টি আসন পাবে ।

আওয়ামী লীগের থিঙ্কট্যাঙ্কের এই জরিপে বলা হয়েছে, বিএনপি এককভাবে পাবে ১৫২ থেকে ১৫৬ আসন। জামায়াতে ইসলামীর আসন আগের যে কোন সময়ের তুলানায় বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ হতে পারে। জাতীয় পার্টি সর্বোচ্চ ৭টি আসন এবং অন্যান্য দল স্বতন্ত্র মিলিয়ে পেতে পারে ৪০ থেকে ৪৫টি আসন পাবে।

একটি বিশেষ সূত্র থেকে জরিপের এতথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের ভরাডুবির কারন উল্লেখ করে বলা হয়েছে, দলের কতিপয় নেতার লাগামহীন দুর্নীতি, বিভিন্ন এলাকায় দলের নেতাদের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি, স্থানীয় নেতাদের জনগনের সাথে দূরত্ব তৈরি হওয়া, পুলিশ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীর ভুমিকায় অবতীর্ণ হওয়া, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি। যেসব এলাকায় বর্তমান সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এবং জনগনের সাথে দূরত্ব তৈরি হয়েছে তাদের সতর্ক করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে এসব এলাকায় নতুন সম্ভাবনাময় প্রার্থী খোজে বের করার সুপারিশ করা হয়েছে। পুলিশ বিভাগের কর্তা ব্যক্তিদের অতিরিক্ত আওয়ামী ভক্ত না দেখানোর জন্য সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে জরিপে।

জরিপে সুপারিশ করা হয়েছে নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে হলে আওয়ামী লীগের কি করা উচিত। আমরা হয়ত: সহজ একটা উত্তর বলব নির্বাচনে কারচুপি এবং ভোট কেন্দ্র দখলে নেবে তারা। এটাই তাদের সর্বশেষ পরিকল্পনা। কিন্তু জরিপে এমন কোন সুপারিশ করা হয়নি।

সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, যে কোন মূল্যে জামায়াতে ইসলামীকে ২০ দলীয় জোট থেকে পৃথক করা। জামায়াতে ইসলামীকে পৃথকভাবে নির্বাচন করার সুযোগ করে দেয়া। বিএনপি’র ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা ইন্ডিয়াপন্থিদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে দলের ভেতরে অস্থিরতা জিয়ে রাখা। আওয়ামী প্রচার মাধ্যম গুলোকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি’র ভেতরে উদারপন্থি-কট্ররপন্থি, স্বাধীনতার পক্ষ বা বিপক্ষ শক্তি ইত্যাদি প্রচারণা চালানো। যাতে নিজেদের ভতরে বিভেদ ক্রমশ চাঙ্গা হয়ে উঠে। সময়মত ঘাপটি মেরে থাকা ইন্ডিয়াপন্থিদের কাজে লাগিয়ে বিএনপিকে একাধিক ভাঙ্গনে বিভক্ত করা। এসবের মাধ্যমে নির্বাচনের সময় প্রায় সকল আসনে বিএনপি’র বিরুদ্ধে বিএনপিকে প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দেয়া।

এছাড়া আরো বলা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়াকে দন্ড দিয়ে মামলা গুলো যথাসম্ভব দ্রুথ নিষ্পত্তি করা। দুর্নিিতর দায়ে দন্ডিত খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা। দেশের ভেতরে বাইরে প্রচার চালানো বিএনপি’র শর্ষ নেতৃত্ব দুর্নীতিবাজ। এতিমের টাকাচোর হিসাবে আদালতের রায়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে চিহ্নিত করা। অন্যান্য দুর্নীতির মামলা গুলোকে দ্রুত সক্রিয় করে বিচার এগিয়ে নেয়া।

ইন্ডিয়াপন্থি নয় এমন বিএনপি নেতাদের দুর্নীতির মামলা গুলোর বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়ে দন্ড দেয়া। পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের অভিযোগ চলমান মামলা গুলো নিষ্পত্তি করে বিএনপিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে চিহ্নিত করা। অভিযুক্ত নেতাদের দন্ড দিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে জরিপে।

জরিপে বলা হয়েছে এরশাদকে যে কোন মূল্যে আওয়ামী জোটের পক্ষে রাখা। এজন্য এরশাদকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলা গুলো সক্রিয় করা।

এই জপির এবং সুপারিশ হাতে পাওয়ার পর শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই তাঁর অ্যাকশন প্ল্যানও তৈরি করেছেন। এরশাদের পুরাতন মামলা গুলো এই মাঝে সক্রিয় করার উদ্যোগ লক্ষ্য করা গেছে। দন্ড দেয়ার মত বিএনপি নেতাদের মামলা গুলো চিহ্নিত করে নিষ্পত্তির জন্য অগ্রাধিকার দিতে সংশ্লিস্টদের কাছে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা দু’টি মামলা নিষ্পত্তির শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে হাইকোর্ট বিভাগ থেকে একটি মামলায় ৭ বছরের কারাদন্ড এবং এক কোটি টাকা জরিমানা ঘোষাণা করা হয়েছে। ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার অভিযোগ চলমান মামলাটিও নিষ্পতির শেষ ধাপে রয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই যে কোন সময় রায় ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করতে সরকার।

আওয়ামী লীগের এ কৌশল কিভাবে মোকাবেলা করবে বিএনপি সেটার উপরই নির্ভর করছে পরবর্তি নির্বাচনের ফলাফল।

লেখক: বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত।

Leave a Reply

x

Check Also

ফাঁস হল পুলিশের গুম আর ক্রসফায়ারের নাটক!!

ফাঁস হল পুলিশের গুম আর ক্রসফায়ারের নাটক!!

ফাঁস হল পুলিশের গুম আর ক্রসফায়ারের নাটক!! ফাঁস হল পুলিশের গুম আর ক্রসফায়ারের নাটক!! Related